বাংলাদেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং গ্রাহকসেবার মানকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করার লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি তাদের ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের নতুন লোগো ও স্লোগান উন্মোচন করেছে। আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬), রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ‘আইএফআইসি টাওয়ার’-এর মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন লোগো ও স্লোগান ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ব্যাংকের দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কে পাঁচটি নতুন ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এবং সকল শাখা ও উপশাখায় বিশেষায়িত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ডেস্ক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
লোগো উন্মোচন ও নতুন স্লোগান ঘোষণা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেন ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের স্বতন্ত্র লোগোটি উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘শুদ্ধতা ও বরকতের সমন্বয়’ শীর্ষক স্লোগানটি ঘোষণা করেন। লোগোটি উন্মোচনের পর তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের এক হাজারেরও বেশি শাখা ও উপশাখায় ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ডেস্ক কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকের প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি এখন থেকে শরিয়াহ অনুযায়ী সকল আর্থিক লেনদেনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন গ্রাহকেরা।
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফা তার উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসলামিক ব্যাংকিং খাতের প্রসারে ব্যাংকের কৌশলগত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আইএফআইসি ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের চাহিদা ও বিশ্বাসের মূল্যায়ন করে। আমাদের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আজ নতুন স্লোগান, লোগো এবং পৃথক সার্ভিস ডেস্ক চালু করা হলো। এটি কেবল লোগো পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। অদূর ভবিষ্যতে আমরা গ্রাহকদের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আরও উদ্ভাবনী, আধুনিক এবং শরিয়াহসম্মত নতুন নতুন প্রোডাক্ট ও সেবা বাজারে আনব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই নতুন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা আরও সহজ, দ্রুততর এবং কার্যকর উপায়ে তাদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ পরিচালনা করতে পারবেন। বিশেষ করে পাঁচটি নির্দিষ্ট ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এই কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা ও লক্ষ্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. মেহমুদ হোসেন বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ধর্মপ্রাণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এই খাত বড় ভূমিকা রাখছে। আইএফআইসি ব্যাংকের যে শক্তিশালী ও সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এই সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চাই।”
তরুণ কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আইএফআইসি ব্যাংকের দক্ষ তরুণ কর্মীবাহিনীই হবে এ খাতের সম্প্রসারণের মূল চালিকাশক্তি। আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার মানকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যা ব্যাংকটিকে এই খাতে অনন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।” তিনি বিশ্বাস করেন, ‘শুদ্ধতা ও বরকতের সমন্বয়’ কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি ব্যাংকের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হবে।
ইসলামিক ব্যাংকিং ডেস্কে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ
আইএফআইসি ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগের অধীনে গ্রাহকেরা ব্যাংকের প্রতিটি শাখা ও উপশাখায় নির্দিষ্ট ডেস্ক থেকে সরাসরি ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা পাবেন। এর অধীনে গ্রাহকেরা বিভিন্ন শরিয়াহভিত্তিক ডিপোজিট স্কিম, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধার তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যাংকিং উইন্ডোগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে গ্রাহকেরা দ্রুততম সময়ে শরিয়াহ নিয়মাবলী পরিপালন করে তাদের লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন। ডিজিটাল ব্যাংকিং প্লাস এই সার্ভিস ডেস্কের সমন্বয়ে আইএফআইসি ব্যাংক গ্রাহকদের ওমনি-চ্যানেল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি
আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরাসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরিয়াহ গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করে আইএফআইসি ব্যাংকের এই নতুন পথচলা দেশের ইসলামিক অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই উদ্বোধনের মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংক প্রমাণ করল যে, তারা কেবল প্রচলিত ব্যাংকিং নয়, বরং বহুমুখী আর্থিক সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সামগ্রিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংকের দেশব্যাপী সুবিস্তৃত প্রায় এক হাজার তিনশোর বেশি উপশাখা এখন থেকে ইসলামিক ব্যাংকিং ডেস্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের হাতের নাগালে এই বিশেষায়িত সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।



